ইসলামী সমাজ ব্যাবস্থায় যাকাতের গুরুত্ব।

লেখক ও গবেষক।

ডা: মো: এন এইচ বি আফসারী।

চেয়ারম্যান।

কুরানিক রিসার্স ফাউন্ডেশন।

সম্মানিত,
দ্বীনদার, ঈমানদার, মমিন মুত্তাকী, মুসলমান ভাই ও বোনেরা।

আস-সালামু আলাইকুম, ওয়া রাহমাতুল্লাহি, ওয়া বারাকাতুহ। আপনাদের সকলের উপর আল্লাহর রহমত বরকত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

আশা করি যথাযোগ্য মর্যাদা ও আন্তরিক খোদাভীতির সাথে, মহা বিশ্বের এককস্বর্ত মালিক, মহান রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে নাযিলকৃত পরিপূর্ণ জীবন বিধান ও হেদায়াতের মহাগ্রন্থ (আল কুরআন মজীদ) নাযিলের মাস, রহমত, বরকত, মাগফিরাতের মাস, পবিত্র মাহে রামাদানে, রোজা পালন করছেন।

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে, আমাদের সকলের ছোট বড় সকল নেক আমল সমুহ, কবুলিয়তের দরখাস্ত প্রাদান করে, সকলকে মাহে রমজানের সংযোমী শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।

হে বিশ্বাসীগণ।
আপনাদের মধ্য থেকে যারা, মহান রাব্বুল আলামিনের রুবুবিয়াত ও উলুহিয়াত এর উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছেন। তাহারা অবশ্যই ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক পাঁচটি বিষয় কালিমা, নামাজ, রোজা, হজ্ব ও যাকাত এই বিধান সমুহ গুরুত্বপূর্ণ পালনীয় কর্তব্য বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

পবিত্র কুরআন মজীদে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন, যেখানেই নামাজ প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করেছেন, সেখানেই একই সাথে, সমান গুরুত্বের দিয়ে যাকাত আদায় করার বিধানও উল্লেখ করেছেন। সুতরাং ইসলামী সমাজ ব্যবস্থায় যাকাত একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মৈলিক ইবাদত।

তাই ইসলামী সমাজ ব্যাবস্থায়, যাকাতের গুরুত্ব নামাজের মতই অপরিসীম, কেননা কোন সমাজে নামাজ প্রতিষ্ঠা হতেই পারেনা, যাকাত আদায়করা ব্যতীত।

উদাহরণ স্বরুপ বলা যেতে পারে। একজন দুর্বল, অসহায়, অভাবগ্রস্থ, ঋণগ্রস্ত মানুষ, নামাযে দাঁড়িছেন। তার পেটে খাবার নাই। তার স্ত্রী অসুস্থ, ঔষধ কেনার টাকা নাই। তার সন্তান স্কুলে যাবে, পরীক্ষার ফি নাই, বই কেনার টাকা নাই।

স্বাভাবিকভাবেই মানবিক দৃষ্টি থেকে, মানবিক চিন্তা-চেতনা থেকে। তার প্রয়োজনের কথা, তার পরিবারের প্রয়োজনের কথা। তার সন্তানের প্রয়োজনের কথা। তার মনে পড়তেই পারে।
আর আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের চাইতে, তার বান্দাদের প্রয়োজনের কথা, অধিক ভাল কে বুঝবে?
সেই জন্যই তিনি নিজেই, নামাজের গুরুত্বের সাথে, সমান গুরুত্ব দিয়ে, যাকাতকে ইসলামের মৈলিক বিধান হিসেবে সম্পৃক্ত করে, ইসলামী সমাজ ব্যাবস্থার পূর্ণতা বিধান করেন।

আর এই যাকাত সম্পর্কে, সরদারে দো-আলম, রাহমাতুল্লিল আলামিন, নবী মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও সমান গুরুত্ব প্রদান করেন।

হযরত ইবনে আব্বাস (রা:) থেকে বর্ণিত : তিনি বলেন, নবী (স:) হযরত মূয়াজ (রা:) কে ইয়ামেন দেশে, শাষক হিসেবে প্রেরণ করেন।

অত:পর বলেন, সেখানকার অধিবাসীদের প্রতি এই মর্মে আহবান জানাবে যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল।
যদি তারা তা মেনে নেয়, তবে তাদেরকে অবগত কর, যে আল্লাহ তা’আলা প্রত্যেক দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন।

যদি সেটাও তারা মেনে নেই। তবে তাদেরকে অবগত কর যে, আল্লাহ তাআলা তোমাদের উপর, তোমাদের সম্পদের মধ্যে থেকে, সাদাকা যাকাত ফরয করেছেন।
যেইটা ধনীদের নিকট থেকে গৃহীত হবে, আর দরিদ্রদের মাঝে প্রদান করা হবে।
( সহিহ আল বোখারি।)

সুতরাং, আসুন প্রিয় ভাইয়েরা।
একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করি। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন চাইলে, অবশ্যই সকলকেই সমানভাবে সম্পদশালী করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি।

তিনি যাকে ইচ্ছা করেছেন, সম্পদের মালিক বানিয়েছেন, আবার যাকে ইচ্ছা করেছেন, ফকির, মিসকিন, অনাথ অসহায় করেছেন।
মুলতো সম্পদশালী / ধনী হওয়া, আর সম্পাদহীন / দারিদ্র্য হওয়া, দুটোই হচ্ছে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে পরীক্ষা মাত্র।

সম্পদশালী ব্যক্তির জন্য পরীক্ষা হচ্ছে, সম্পদের মালিক হয়ে, তিনি কতটা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তার সম্পদ কোন কাজে ব্যয় করেন।

অপরদিকে,
দরিদ্র বান্দার জন্য পরীক্ষা হচ্ছে, দারিদ্রতার মাঝে, অভাবের মাঝে থেকেও, তিনি কতটা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং কিভাবে ধৈর্য ধারন করে নিজের জীবণ পরিচালনা করেন।

তাই আসুন,
যাকাত আদায়ের মাধ্যমে, আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের, এই পরীক্ষায় যথাযথ ভাবে সফলতা অর্জনের লক্ষে, প্রত্যেকেই নিজ নিজ দায়ীত্বে, আন্তরিকতা ও খোদাভীতির সহিত, যাকাত আদায় করি।
হে আল্লাহ,
আমাদের সকলকে, আমাদের পরিবার বর্গ ও সন্তানদেরকে, নেক কাজের জন্য কবুল কর, এবং সকল প্রকার বিপদ ও মুসিবত থেকে হেফাজত কর।
আমিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *